by WatchDog_bd March 26, 2009 - 8:58am
কে এই রামগোপালান?এনা নিউইয়র্কপিলখানা হত্যাকাণ্ডের জের ধরে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশী সৈন্যদের সরিয়ে দেয়ার দাবি উঠেছে। ১৫ মার্চ এক পত্রে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুনের প্রতি এ দাবি জানান সুসান রামগোপালান নামে জনৈক মহিলা। ওই চিঠির কপি ই-মেইলেও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বার্তা সংস্খা এনাও পেয়েছে একটি কপি।‘জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ইসলামিক জঙ্গি’ শীর্ষক এই পত্রে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব:) ফারুক খানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশী সৈন্যরা জঙ্গিদের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন। কেননা ওই মন্ত্রী ঢাকায় সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, জামা’আতুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) ইসলামিক জঙ্গিরা আস্তানা গেঁড়েছে সীমান্ত নিরাপত্তারক্ষীর (বিডিআর) মধ্যে। পত্রে আরো বলা হয়েছে, বিডিআর পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মবকর্তাদের মাধ্যমে। এ কারণে জঙ্গিদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন সৈন্য দিয়ে শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যক্রম পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ বৈকি। এ অবস্খায় বাংলাদেশ পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে যত দ্রুত সম্ভব বহিষ্কার করা দরকার এবং বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কাউকে নেয়ার কোনো অবকাশই থাকতে পারে না।এ পত্রের ব্যাপারে মহাসচিবের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ২৪ মার্চ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে জাতিসঙ্ঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে কানাঘুষা চলছে বলে একাধিক সূত্র বার্তা সংস্খা এনাকে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সম্পর্ক রয়েছে ইসলামিক জঙ্গিদের সাথে এমন প্রচারণা চালিয়ে প্রকারান্তরে বাংলাদেশের ইমেজকে বহির্বিশ্বে ক্ষুণíí করার পাশাপাশি স্বাধীন-সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেও চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। শুধু তা-ই নয়, শান্তিরক্ষা মিশনে কাজের মাধ্যমে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সহায়তা করছে। প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের অর্থও তারা পাঠাচ্ছেন এ কাজের বিনিময়ে। সচেতন প্রবাসীরা বলেছেন, পিলখানায় হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি কানেকশনের ব্যাপারে সরকার ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের পদক্ষেপ নিয়েছে। তদন্তপ্রক্রিয়াকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার অভিপ্রায়ে এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে ডাকা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও যারা ওই ঘটনাকে পুঁজি করে জাতিসঙ্ঘে দরখাস্ত দিয়েছেন তারা বাংলাদেশের ইমেজকেই শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস চালাননি, একই সাথে বাংলাদেশকেও আফগানিস্তানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ফাঁদ পেতেছে। এ ব্যাপারে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্খায়ী প্রতিনিধি ইসমত জাহানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অফিসিয়াল ব্যস্ততার কারণে ২৪ মার্চ রাত পর্যন্ত বার্তা সংস্খার সাথে কথা বলতে পারেননি। তবে বাংলাদেশ মিশনের প্রেস মিনিস্টার শারকে চামান খান এনাকে বলেছেন, ওই ধরনের কোনো পত্রের ব্যাপারে তারা জানেন না বা জাতিসঙ্ঘের কোনো পর্যায় থেকে তাদের কাছে ওই ব্যাপারে কেউ জানতেও চাননি।
সূত্রঃ দৈনিক নয়া দিগন্ত